এসবিএন ডেস্ক: পুনর্বাসিত রানা প্লাজা ভিকটিমদের সঙ্গে সময় কাটালেন ঢাকা সফরে আসা ডেনমার্কের কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইয়র্ন নির্গার লারসেন। ৪ দিনের সফরে প্রথম দিনে সোমবার বিকালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ভুক্তভোগীদের জীবনের গল্প শুনেন তিনি।
ঢাকার অদূরে একটি গার্মেন্ট কারখানাও পরিদর্শন করেন ডেনিশ মন্ত্রী। ঢাকাস্থ ডেনমার্ক দূতাবাসের অফিসিয়্যাল ফেসবুক পেজে রাতে মন্ত্রীর সফর এবং ঢাকার প্রথম দিনের কার্যক্রম নিয়ে ৪টি ছবি আপলোড করা হয়।
সেখানে দুটি ছবি রানা প্লাজা বিষয়ক ওয়ার্কশপে অংশ নেয়া ভিকটিমদের সঙ্গে আর দুটি ছবি কারখানা পরিদর্শন সংক্রান্ত। কারখানা পরিদর্শনের একটি ছবিতে মন্ত্রী নিজে টি-শার্টে স্কিন প্রিন্ট দিচ্ছেন বলে দেখা যায়।
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে যা বলা হয়েছে, ডেনিশ মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর শীর্ষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে সোমবার তিনি ঢাকায় পৌঁছান। প্রথম দিনেই মন্ত্রী আকু-টেক্স গ্রুপের কারখানা পরিদর্শন করেন।
ওই কারখানায় ডেনমার্কের বাজারের জন্য পোশাক তৈরী হয়। ওই কারখানার পণ্য উৎপাদনের পরিবেশ বিশেস করে দায়িত্ববোধ ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
এখানে গার্মেন্ট শিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা দেখে অভিভূত হন মন্ত্রী। এ শিল্পের আরও অনেক কিছু করার আছে বলে মত দেন তিনি। দূতাবাস জানায়, গার্মেন্ট কারখানা পরিদর্শনের পাশাপাশি রানা প্লাজা ভিকটিমদের সক্ষমতা বাড়ানো বিষয়ক একটি কর্মশালায় অংশ নেন ডেনিশ মন্ত্রী। সেখানে তিনি অনেকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিশেষ করে পুনর্বাসন পরবর্তী জীবনের গল্প শুনেন।
সেখানে ওই ঘটনার শিকার নারী কর্মীদের টেকসই ভবিষ্যতে ডেনিশ সরকারের সম্পৃক্ততার বিষয়ে মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। উল্লেখ্য, ঢাকা সফরকালে লারসেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকসহ যৌথভাবে দু’দেশের মধ্যেকার একটি কৌশলগত সেক্টর সহযোগিতা প্রকল্পের সূচনা করবেন।
‘শ্রম কর্তৃপক্ষ শক্তিশালী করণের মাধ্যমে বাংলাদেশী শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার উন্নতিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি ডেনমার্ক এবং বাংলাদেশের দুই মন্ত্রণালয়ের মাঝে ৩ বছরের একটি অংশীদারিত্ব মূলক কার্যক্রম যাতে উভয় দেশের বিভিন্ন সংস্থার সহযোগীতা রয়েছে।
এ প্রকল্পটি বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাতে টেকসই উৎপাদন ও অবকাঠামগত শর্তাবলী উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আরো আশা করা হচ্ছে যে, এ প্রকল্পের ফলাফল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখবে এবং ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ সফরকালে লারসেন একটি তৈরি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশী সহযোগী, এদেশে ডেনমার্কের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
এছাড়া আজ সন্ধায় ঢাকায় ডেনমার্ক, সুইডেন ও নরওয়ের নতুন একীভূত দূতাবাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
বাংলাদেশ-ডেনমার্কের উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্বের একটি দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। লারসেনের সফরের মাধ্যমে এ সম্পর্ক আরও বেশী জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।