স্টাফ রির্পোটার: সিলেটের গোপালগঞ্জ উপজেলার বুধবারি বাজার এলাকার কালিজুরি গ্রামের বাসিন্ধা আব্দুল মান্নানের ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সাহিনুল ইসলাম (২৬) এর উপর একাধিক মামলা দায়ের। বিগত সরকারের শাসনআমলে তিনি এলাকায় স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে নানা রকম নিপিড়নসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে দায়েরকৃত মামলায়। মামলা দায়েরের পর থেকে ছাত্রলীগ নেতা সাহিনুল ইসলামের কোন খোঁজ পাচ্ছেনা গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ। সাহিনুলকে গ্রেফতারে পুলিশ বারবার তার বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া তার সন্ধান দিতে পরিবারের সদস্যদের উপর চাপ প্রয়োগ করছে পুলিশ।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত ২৯/০৯/২০২৪ ইং তারিখে সিলেট মাননীয় অতিরিক্ত চীফমেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ থানার সুলতানপুর গ্রামের আব্দুস সালাম ও মরিয়ম বেগমের ছেলে আব্দুর রহমান (৪৩)। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন তিনি গত ৪/৮/২০২৪ ইং তারিখে সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে আসা মাত্রই উল্লেখিত আসামীরা তাকে হত্যার উদ্দ্যেশে হামলা করে। এতে তিনি মারাত্বক ভাবে আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে মামলাটি দায়ের করছেন।
আদালত আব্দুর রহমানের মামলাটি আমলে নিয়ে সিলেট কোতয়ালী থানাকে এফআইআর করার নির্দেশ দিলে পুলিশ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ার পর মামলাটি রুজু করে। যা সিলেট কোতয়ালী থানার সিআর মামলা নং-৯৯৯/২০২৪।
ধারা ১৯৮০ সনের অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যদি আইনের ৩/৪ তৎসহ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৮২৭/৩৭৯/৩৪ দন্ডবিধি। উক্ত মামলায় আসামী করা হয় সাবেক সিলেট সিটি মেয়র (পালাতক) আনোয়ারজ্জামান চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, এসএমপি পুলিশের ডিসি আজবাহার আলী শেখ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) গোলামদস্তগীর কাউছারসহ প্রায় ৭৮জনকে। উক্ত মামলার ১৩ নং আসামী গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সাহিনুল ইসলাম। মামলা দায়েরের পর থেকে থাকে পুলিশ গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানা ওসি জানান, সাহিনুল ইসলাম গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা তার বিরুদ্ধে এই মামলা ছাড়াও আরো একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
এদিকে সাহিনুল ইসলামের খবর নিতে তার গ্রামের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবার থেকে জানানো হয়, সরকার পথনের পর থেকে সাহিনুল ইসলাম পালাতক রয়েছে। তার কোন খোঁজ পাচ্ছেনা পরিবার। তবে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অস্ত্র-স্বস্ত্র নিয়ে সাহিনুল ইসলামকে খোঁজতে বাড়িতে এসে খোঁজ করতে থাকেন এবং হুমকি দেন সাহিনুল ইসলামকে পেলে তারা হত্যা করবেন।