শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
আপনাকে স্বাগতম । সিলেটসহ সারাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীরা আমাদের পত্রিকার ইমেইলে অথবা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
সংবাদ শিরোনাম :
ইউপি নির্বাচনে শক্তভাবে মাঠে নামছেন নাহিদ জালালপুরে সূচনা প্রকল্পের পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন সিলেটের তিনটি প্রজেক্ট বাস্তবায়ন বিশ্বনাথে সিংগেরকাছ দরিদ্র সমাজ কল্যাণ সংস্থার সেলাই মেশিন বিতরণ ডিআইজি মিজানসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল অস্ত্র মামলায় পাপিয়া দম্পতির যাবজ্জীবন চায় রাষ্ট্রপক্ষ ঢাকা ওয়াসা এমডির নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে রিট পরাজিত হলে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি নন ট্রাম্প দেশে উন্নয়নের জোয়ার চলছে – হানিফ সিলেটের জেল সুপার জলিল বদলী সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মোমেনের বৈঠক রোববার বায়মপুরীর কবর হতে বের হচ্ছে সুগন্ধি, জনতার ভীড় নিরাপদ এলপিজি ট্রেড সেন্টার এর উদ্বোধন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগী আব্দুর রউফ এর ১ম মৃত্যুবাষিকী পালিত সবচেয়ে বেশি রক্তঝরা সীমান্তের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত অন্যতম করোনা মুক্ত মেয়র আরিফ সিলেটে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে টিকিটের দাবিতে সৌদি প্রবাসীদের বিক্ষোভ অব্যাহত বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ‘বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ’ তৈরির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্যে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে রেস্তোঁরায় কারফিউ গোয়াইনঘাটে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে শ্রেনী কক্ষ সিলেট গ্যাস ফিল্ডস থেকে পেট্রোল সরবরাহ না করলে কঠোর কর্মসূচী রোটারি ক্লাব অব সিলেট কসমোপলিটন’র দু’জন মেয়ের বিয়েতে আর্থিক অনুদান প্রদান গর্ভের সন্তান ছেলে কি না জানতে স্ত্রীর পেট কাটল স্বামী বড়লেখায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ
তেজপাতার দাম নেই, হতাশ বিয়ানীবাজারের চাষিরা

তেজপাতার দাম নেই, হতাশ বিয়ানীবাজারের চাষিরা

সিলেট:  একসময় বাংলাদেশের মসলার বাজারে একাধিপত্য ছিলো সিলেট অঞ্চলে উৎপাদিত তেজপাতার। যার সিংহভাগই সংগ্রহ করা হতো বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে। উঁচু-নিচু টিলা বেষ্টিত এই অঞ্চলের মাটি তেজপাতা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। প্রাকৃতিক কারণে এখানে উৎপাদিত তেজপাতা অত্যন্ত সুগন্ধযুক্ত। তাই দেশ ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে এই জনপদে উৎপাদিত তেজপাতার ছিলো যথেষ্ট কদর।
তেজপাতা চাষের জন্য বিয়ানীবাজার উপজেলার মোল্লাপুর ও লাউতা ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম এবং পৌরসভার সুপাতলা, নিদনপুর, খাসাড়িপাড়া, চন্দগ্রাম এলাকার মাটি বেশ উর্বর। পূর্বে এই এলাকাগুলোর প্রায় সবকটি উঁচু-নিচু টিলা, বাড়ির আঙিনা কিংবা সামান্য উঁচু পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে তেজপাতা উৎপাদন করা হতো। কিন্তু গত ৫-৬ বছর ধরে তেজপাতা চাষ থেকে নিজেদেরকে অনেকটা গুটিয়ে নিচ্ছেন এখানকার বাগান মালিকরা। তবুও প্রতিবছর অন্তত ৭-৮ হেক্টর জমিতে তেজপাতা উৎপাদন করেন তারা।
উর্বর মাটিতে মসলা জাতীয় তেজপাতার ভাল উৎপাদন হলেও বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে হোঁচট খাচ্ছে সম্ভাবনাময় এই খাত। আগে তেজপাতার আবাদ করে চাষিরা লাভবান হলেও এখন দাম না পেয়ে হতাশ। তবে পারিবারিক চাহিদা মেটাতে এখানকার প্রতিটি বাড়িতে দুই-চারটি তেজপাতা গাছ এখনও চাষ করেন অনেকেই। অনেকে ঝুঁকছেন বিকল্প চাষের দিকে। আর তাই সম্ভাবনাময় এই খাত রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ চান বাগান মালিকরা।
বাগান মালিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, একটি মাঝারি গাছ থেকে ২০-২৫ কেজি ও বড় গাছ থেকে ৩০-৩৫ কেজি তেজপাতা পাওয়া যায়। প্রতি কেজি তেজপাতা ১০০-১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাষিদের কাছ থেকে তেজপাতা কিনে নিয়ে শুকানো ও বাছাইয়ের পর বস্তায় বা বাঁশের তৈরি খাঁচায় ভর্তি করে রাখেন। পরে সিলেট ও ঢাকার পাইকাররা এ তেজপাতা কিনে নিয়ে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করেন। কাঁচা পাতা ১২০-১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও বাছাই করে ঢাকার পাইকারদের কাছে তা ২০০-২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতি আঁটি তেজপাতা ২০-৪০ টাকা করে বিক্রি হয়। এক আঁটিতে পাতাভর্তি ছোট দুটি ডাল থাকে। মৌসুমে একেকটি গাছ থেকে ২০০-২৫০ আঁটি তেজপাতা পাওয়া যায়।
লাউতা ইউনিয়নের জলঢুপ গ্রামের তেজপাতা বাগানী আব্দুল হামিদ জানান, বর্তমানে তেজপাতার দাম অত্যন্ত কম। কিন্তু পাঁচ বছর আগেও আমাদের বাগান থেকে প্রতিবছর লক্ষাধিক টাকার তেজপাতা বিক্রি করেছি। এখন চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশীয় তেজপাতায় অনেকেরই আগ্রহ নেই। তেজপাতার চাষ ও দেশীয় বাজার বাড়াতে আমদানি বন্ধের দাবি জানান তিনি।
লাউতা ইউনিয়নের কালাইরা গ্রামের তেজপাতা চাষি টিপু আহমদ জানান, আগে তেজপাতার ভালো দাম পেতাম। বর্তমানে বাজারে বিদেশি তেজপাতা বেশি। পাইকারি বিক্রেতারা এখন আর আমাদের কাছ থেকে তেজপাতা কিনতে চান না, অনেকে কিনলেও ন্যায্য মূল্য দিতে চান না। তাছাড়া তেজপাতার বাগানে যা খরচ হয় তার অর্ধেক দামও পাওয়া যায় না। দাম না পেয়ে তেজপাতার গাছ কেটে ফেলছেন এখানকার অনেক চাষিরা।
তেজপাতা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাংলাদেশে যে পরিমাণ তেজপাতা উৎপাদন হচ্ছে তা দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। তবুও বিদেশ থেকে কম মূল্যে তেজপাতা আমদানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি নানা ধরনের জটিলতার কারণে বাগান ক্রয় বন্ধ করে দিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ীরা।
ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দেশীয় বাজারে তেজপাতা সরাসরি বিক্রির মাধ্যম চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিয়ানীবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান।
তিনি জানান, বিয়ানীবাজার উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া তেজপাতা চাষের উপযোগী। সে কারণে তেজপাতা চাষে এখানকার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। চাষিদের একত্রিত করে শুকনো পাতা প্যাকেটজাতের মাধ্যমে তেজপাতার বাণিজ্যিকভাবে বিপণন সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Calendar

September 2020
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  



© All rights reserved © 2017 sylhet71news.com
Design BY Sylhet Hosting
sylhet71newsbd
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com