সর্বশেষ সংবাদঃ-

» ঘুষ কেলেঙ্কারিতে দুদক পরিচালক বাছির কারাগারে

প্রকাশিত: 24. July. 2019 | Wednesday

Spread the love

নিউজ ডেস্ক :: ৪০ লাখ টাকা ঘুষ কেলেঙ্কারি মামলার আসামি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরখাস্ত হওয়া পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে জেল কোড অনুযায়ী তাকে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাছিরকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এরপর শুনানি শেষে বিচারক জামিন নাকচ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল উপস্থিত হয়ে শুনানি করেন। আসামি পক্ষে আইনজীবী মো. কামাল হোসেন ও কবির হোসেন শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক এ আদেশ দেন।

মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে নিয়ে যায় পুলিশ। সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আবেদন করে বলেন, গ্রেফতার এনামুল বাছির দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এছাড়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত বিনষ্ট করার হীন চেষ্টাসহ সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন। তাকে জামিন দেয়া হলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করতে পারেন এবং তদন্তকাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেন।

এর আগে সোমবার রাতে তাকে রাজধানীর দারুসসালাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। দুদকের তদন্ত টিমের প্রধান শেখ মো. ফানাফিল্লাহর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের একটি টিম সোমবার রাত ১১টার দিকে মিরপুরে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। রাতেই তাকে রমনা থানাহাজতে হস্তান্তর করা হয়।

৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় বাছিরসহ পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ১৭ জুলাই মামলা করে দুদক। ফরেনসিক পরীক্ষায় ঘুষ লেনদেন নিয়ে তাদের কথোপকথনের অডিওর সত্যতা পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মিজান কিছু দিন আগে গ্রেফতার হলেও বাছিরকে গ্রেফতারে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম রাজধানীর শাজাহানপুর ও আজিমপুরে তিন দফা অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুদক পরিচালক এনামুল বাছির ঘুষগ্রহণ করেছেন, এটি অডিও রেকর্ডে প্রমাণ আছে। অন্যদিকে ডিআইজি মিজান নিজেই ঘুষ দেয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। দুদক মনে করছে, এর মাধ্যমে মিজান নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিজেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দুজনই ঘুষ লেনদেনে জড়িয়েছেন, যা দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৫(১), ১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) (ক্ষমতার অপব্যবহার) ধারায় অজামিন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ডিআইজি মিজান দুদকের মামলায় বর্তমানে কারাগারে আছেন। মামলা করার আগেই বাছিরকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু তিনি সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন। ১০ জুন দুদকে হাজির হয়ে তার ঘুষের বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি সেদিন এ ব্যাপারে কোনো মতামত দেননি।

দুদকের মামলার এজাহারের তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয় এনামুল বাছিরকে। ওই অনুসন্ধান চলমান অবস্থায় ৯ জুন ডিআইজি মিজান ওই অনুসন্ধান থেকে বাঁচতে এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এর পরই দুদকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে খন্দকার এনামুল বাছিরের বক্তব্য গ্রহণ করে এবং পারিপার্শ্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে ঘুষ নেয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পায়। পরে ১৩ জুন পরিচালক ফানাফিল্লাহর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে দুদক।

 

সিলেট৭১নিউজ/২৪জুলাই/বুধবার/এআ

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১০৭ বার

[hupso]

Office : Haque Super Market (2nd Floor), Zindabazar, Sylhet-3100.

News & Advertising : sylhet71news@gmail.com     (+88 01710 30 47 08 – News)

 

“Don’t Copyright Without ‘sylhet71news’ Permission.”

Calendar

December 2019
M T W T F S S
« Nov    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031