» শিতালং শাহ গান ও কথা কামাল উদ্দিন রাসেল ………

প্রকাশিত: 09. July. 2020 | Thursday

Spread the love

কামাল উদ্দিন রাসেল ঃ #ফকির শিতালং শাহ’র তাহার আসল নাম ছিল মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ।তিনির ফকিরি নাম গ্রহণ করেন শিতালং,ইহা একটি ফারসি শব্দ ইহার অর্থ হল পায়ের গোঁড়ালির গোল হাড়। তিনি নিজেকে পায়ের গোঁড়ালির হাড়ের মতো প্রকাশ করিয়া বিনয়ের পরাকাষ্ঠা দেখাইয়াছেন।আল্লাহ – রাসুলের প্রেমে মাতোয়ারা সাধক ফকির কবি সলিম উল্লাহ নিজের জন্ম সম্মন্ধে তাঁহার “ছিফত পীর মুরশিদান” পয়ারে বলিয়াছেন-“শিতালং” নাম মোর গুনাহ বেশুমার,কৃপা যদি কর আল্ল করিম গফফার। মোহাম্মদ উল্লাহ দোষগুণে মাজুর,জাঁহা বকশ আলী নাম পিতার মাশুর। পরগনে চাপঘাট মোর পয়দিশ সেতায়,শ্রীগৌরী মৌজায়েতে,শিলচর কিত্তার।#এই শিলচর কিন্তু ভারতের কাছাড় জেলার জেলা সদর শিলচর নয়।শ্রীগৌরী মৌজার একটি পাড়ার নাম।১৯৪৭ সালের পূর্বে চাপঘাট পরগণা সিলেট জেলার করিমগঞ্জ মহকুমাট পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত ছিল।বিভাগান্তে শ্রীগৌরী মৌজা সহ চাপঘাট পরগণার অর্ধেকেরও বেশি ভারতে পড়িয়া যায়।এবং তখন হইতে ভারতের কাছাড় জেলার করিমগঞ্জ মহকুমার অন্তর্ভুক্ত হইয়া গিয়াছে। #মরমি সাধক শিতালং শাহ’র জন্ম তারিখ কোথাও উল্লেখ না থাকার কারনে এই মরমি সাধকের সঠিক জন্ম তারিখ খুঁজিয়া পাওয়া যায়নি।তাঁহার মৃত্যু হয় ১২৯৬ বাংলা ১৭ অগ্রহায়ণ। মরমি সাধক শিতালং শাহ যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন তিনির বয়স  ছিল প্রায় ৯০/৯৫ বছর। এই অনুমানে তাঁহার জন্ম সন ১২০১ হইতে ১২০৬ বাংলার মধ্যে কোন কোন গবেষক ধারণা করেছেন।মরমি সাধক শিতালং শাহ’র পিতা ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন, তিনি একজন ফকির ছিলেন তিনির ফকিরি নাম ছিল কামাল শাহ।তিনির আসল নাম ছিল জাঁহা বকশ্ আলী।ঢাকার তৎকালীন নবাব তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটি কাজের বার দিয়ে তাকে নৌকাযোগে কাছাড়ের দিকে পাঠান।তাহার মতে কাজটি ছিল শরীয়তের বিপক্ষে।নবাবের হুকুমের অনিচ্ছায় যাইতে হইলো তাই খালি আল্লাহর কাছে দোয়া করিতেন এই বিপদ হইতে উদ্ধারের জন্য।নৌকা যখন সেই মাল লইয়া সিলেট জেলার পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত শ্রীগৌরীর কাছে গিয়ে পৌঁছে তখন দৈবক্রমে নৌকা ডুবিয়া যায়। আর জাঁহা বকশ্ আলী অবাঞ্চিত সফর হইতে উদ্ধার পাইয়া যান।তিনি শ্রীগৌরীতেই বসবাস করতে থাকেন,আর ঢাকায় ফিরিয়া যান নাই।সেখানেই তিনি বসবাস করতে থাকেন,তিনি বাল মিয়ার ফুফুকে বিবাহ করেন।ঐ বিবির নাম ছিল সুরত বিবি।সুরত বিবির দুই বোন ছিলেন,আরস বিবি ও নিরস বিবি এবং দুই ভাই ছিলেন মীর মোহাম্মদ ও চঞ্চল মোহাম্মদ।এই মরমি সাধকের তিনি সহ তিনির আরো তিন ভাই ছিলেন,তিনি সবার বড় ছিলেন তিনির আরো দুই ভাইয়ের নাম হলো আলিম মিয়া ও পিরু মিয়া,চতুর্থ ভাইয়ের নাম সংগ্রহ করা যায়নি।মরমি সাধক শিতালং শাহ’র দুই ভাইয়ের প্রথম নাম ছিল আলী বকশ্ ও পীর বকশ্।মরমি সাধক শিতালং শাহ’র দুই ভাই মাদ্রাসায় পড়া শেষে করিয়া যখন বাড়িতে ফিরিয়া যান তখন মরমি সাধক শিতালং শাহ তিনির ভাইদের নামের ভুল অর্থ দেখিয়া তাদের নাম পাল্টায়ে রাখেন আলিম মিয়া ও পিরু মিয়া।#মরমি সাধক শিতালং শাহ পরবর্তীতে সিলেট জেলার ফুল বাড়ি গ্রামে চলিয়া আসেন এবং ফুলবাড়ি মাদ্রাসায় ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করেন। তৎকালীন সময় এই ফুলবালি মাদ্রাসায় ছিল ইসলামী শিক্ষার সুবিখ্যাত এবং উচ্চতর শিক্ষা কেন্দ্র তখনকার দিনে বাংলা শিক্ষার জন্য ফুলবাড়ী মাদ্রাসা সুব্যবস্থা ছিল। মাদ্রাসার উলামাগণ শুধু মাদ্রাসা শিক্ষায় দান করতেন না আধ্যাত্মিক জ্ঞানে শিক্ষা দেওয়ার মত কাবেল,কামেল,আলেমও তখন ফুলবাড়ি মাদ্রাসায় ছিলেন।তাইতো মরমি সাধক শিতালং শাহ ফুলবাড়ি মাদ্রাসায় আধ্যাত্মিক দিকে ও সবক গ্রহণ করেন।মরমি সাধক এাই প্রসঙ্গে এক পয়ারে বলিয়াছেন-
শাহ আব্দুল আলী মোর পীর দস্তগীর,হাশিল মুরাদ ওলী বাতিনে জাহির।মুরশিদ কামিল মোর শাহ আব্দুল ওহাব,
তিনির প্রসাদে হৈল ধিয়ানেতে লাভ। আরেক যায়গায় লিখিয়াছেন -দ্বিতীয় মুর্শিদ মোর শাহ আব্দুল কাহির,
শিশুকালে কেরামতি আছেযে জাহির।আরেক যায়গায় লিখিয়াছেন -এই দুই সাহেব পীর মুর্শিদ কামিল,
কৃপায়ে রব্বানী এতে মুরাদ হাসিল।আরেক যায়গায় লিখিয়াছেন -এই দুই সাহেব মোরে রাখিয়া কৃপায়,
ভেদ মর্ম শিক্ষা দিলা তওজ্জু নিঘায়। #আমাদের মরমি সাধক ফকির শিতালং শাহ’র অনেক গান দেশ বিদেশের দুই এক জনপ্রিয় বাউল সহ কিছু বিতর্কিত ব্যাক্তি এখন তাদের নামে চালিয়ে দিচ্ছে যা সত্যিই আমাদের সংগীত অনুরাগী ভাইদের জন্য লজ্জাজনক বিষয়।আমরা যদি এক্ষুনি এইসব বিতর্কিত গান চোর লেখকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হই তাহলে আমাদের মরমি গানের এই ভান্ডারী একদিন ধীরে ধীরে চুরি হয়ে যাবে। এবং চোরেরাই একদিন দেখবেন তাদের নামের আগে স্বঘোষিত ভাবে সাধক মুধক লাগি দিছে।তখন কে চোর সাধক আর কে আসল মরমি সাধক তা বলা মুসকিল হয়ে যাবে।মরমি সাধক ফকির শিতালং শাহ’র একটি জনপ্রিয় দেহ তত্ত্বের গান আজ আমি আপনাদের জানার ও বুঝার জন্য প্রকাশ করলাম।এই গানটি”মরমি কবি শিতালং শাহ”বইয়ের ১৬১ নং পৃষ্ঠার ৯০নং গান।এই বইটি সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক নন্দলাল স্যার,বইটি ২০০৫ সালে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৫ বার

[hupso]
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com