» করোনা ভাইরাস জয় করলেন মোকাব্বির খান এমপি

প্রকাশিত: 06. July. 2020 | Monday

Spread the love

করোনা ভাইরাস জয় করেছেন সিলেট -২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর)আসনের সংসদ সদস্য এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মোকাব্বির খান।
গত ২১ জুন তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর নেম ভবনে ১৪ দিনের আইসোলেশন সম্পন্ন হওয়ার পর গত রোববার সিএমএইচে করোনা ভাইরাস শনাক্তের আবার নমুনা দিলে সোমবার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।
এমপি মোকাব্বির খান বলেন, তাঁর রোগ মুক্তির জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করেছেন এবং তাঁর সুস্থ্যতা চেয়ে যারা নিজ নিজ ধর্মীয় মতে দোয়া-প্রার্থনা করেছেন, তাঁকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন, সাহস ও মনোবল জুগিয়েছেন, তাদের সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ‘সকলের দোয়ায় পাওয়া নতুন জীবন’ মানুষের জন্য উৎসর্গ করার কথাও তিনি তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন। একই সাথে এই মহামারী ও আগামী দিনের অর্থনৈতিক মহামন্দার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিন আরো বলেন, সকলের দোয়ায় পাওয়া নতুন জীবন আমি মানুষের কল্যানে উৎসর্গ করলাম।
এক বিবৃতিতে মোকাব্বির খান এমপি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর আমার সংসদীয় এলাকা বিশ্বনাথ ও ওসমানী নগরে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আমার প্রতি যে ভালোবাসা এবং আমার স্বাস্থ্য নিয়ে যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেখেছি, আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তা শুধু আমার মনোবলই বাড়ায়নি, আল্লাহর অশেষ কৃপায় মানুষের ভালোবাসার শক্তির কাছে পরাস্ত হয়েছে কোবিড-১৯।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার প্রথম কয়েক দিন নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন ছিলাম। কিন্তু এক সময় শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটলে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হসপিটালে। এরপর আমার সংসদ নেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহযোগিতায় আমাকে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় নেয়া হয়। এজন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ ও ঋণী হয়ে রইলাম। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উর্ধতন কর্মকতাদের প্রতি, সেনাবাহিনী ও সামরিক হাসপাতালের পদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি, সর্বোপরি আমার চিকিৎসায় নিয়োজিত সকল চিকিৎসক, নার্স, এবং স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত সর্বস্তরের কর্মীদের প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আমাকে ও আমার মতো কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত অন্যদের জীবন বাঁচাতে যেভাবে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন, তা নিজ চোখে দেখেছি। এজন্য তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তাদের কাছে আমি যেমন ঋণী, তেমনি করোনা-যোদ্ধাদের কাছে ঋণী গোটা জাতি। তিনি তার দল গণফোরাম এর সভাপতি, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনবিদ ড. কামাল হোসেন এবং গণফোরাম সেক্রেটারি ড. রেজা কিবরিয়া সহ দলের সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে সার্বক্ষণিক আমার খোঁজ খবর নিয়েছেন, সাহস যোগিয়েছেন। এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরাও আমার সুস্থ্যতা কামনা করেছেন।
এমপি মোকাব্বির খান বলেন, আমার প্রতি বিশ্বনাথ-ওসমানী নগরের দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের ভালোবাসা দেখে আমার এই উপলব্ধি হচ্ছে যে, কোন লাভ-লোভের উর্ধে থেকে মানুষের জন্য কল্যানধর্মী রাজনীতি করলে, তাদের ভালোবাসা পেতে, তাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে বেশি সময় লাগেনা। আমি হাসপাতালে যাওয়ার পর আমার সংসদীয় এলাকার মানুষেরা দোয়া খয়রাত করেছেন, মানত করেছেন, মসজিদে মন্দিরে আমার সুস্থ্যতা কামনা করে চোখের জল ফেলেছেন। দেশের নানা প্রান্তের মানুষজনও আমার খোঁজ খবর নিয়েছেন। দেশের বাইরে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশী, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে আমার কমিউনিটির নানা পর্যায়ের মানুষের মাঝে আমার জন্য উদ্বেগ-উৎকন্ঠার যে খবর পেয়েছি, তা আমাকে অভিভূত করেছে, তাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞতাপাশে আমাকে আবদ্ধ করেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবি নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের কাছ থেকে পাওয়া বার্তাগুলোও আমাকে সাহস যুগিয়েছে।
মোকাব্বির খান এমপি তাঁর বিবৃতিতে আরো বলেন, আমি বিশ্বাস করি একজন রাজনীতিবিদের জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো জনগণের ভালোবাসা পাওয়া। আমি আজ সত্যিকার অর্থেই নিজেকে সেই সকল ভাগ্যবান রাজনীতিকদের একজন মনে করছি। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে না গেলে হয়তো কোনদিনই বুঝতে পারতাম না, এত অল্প সময়ে এত মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পেরেছি। তাদের দোয়া/প্রার্থনা, তাদের ভালোবাসায় পাওয়া আমরা এই নতুন জীবন আমি তাদের কল্যানে উৎসর্গ করলাম। আমার সুস্থ্যতার জন্য আমি আবারও আমার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের শোকরিয়া আদায় করছি এবং করোনাভাইরাসের হাত থেকে মানুষের জীবন ভিক্ষা চাচ্ছি।
বিবৃতিতে তিনি সকলকে ঘন ঘন সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া, মাস্ক পড়া, অন্যের কাছ থেকে সর্বাবস্থায় দূরত্ব বজায় রাখা সহ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আমার নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমার। আমি নিজে যদি সবাই সচেতন হই এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, তাহলে মহামারীর এই সংকট কাটতে বেশিদিন লাগবেনা। তিনি মহামারীর কারণে যারা নানা সংকটে পড়েছেন, তাদের কল্যানে যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা নিয়ে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান।
গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা, মোকাব্বির খান এমপি বলেন, আমি হয়তো মুষ্টিমেয় ভাগ্যবানদের একজন, যে সামরিক হাসপাতালে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবায় পেয়েছি। কিন্তু দেশের আপমর জনসাধারণ আজ যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, তা নজিরবিহীন। অক্সিজেনের জন্য, চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে রাস্তায় ঢলে পড়ছেন মৃত্যু কোলে।
তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা পৃথিবী একসাথে এমন দুর্যোগের কবলে কখনো পড়েনি। তাই, এখন দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণতা পরিহার করে জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তোলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। করোনাভাইরাস আমাদেরকে এই তাগিদই দিচ্ছে। পারস্পরিক দোষারূপ নয়, সতেরো কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে সব দল ও মতকে নিয়ে এখনই জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তুলে মহামারী ও মহামারী-উত্তর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করতে হবে। মোকাব্বির খান বলেন, ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যেভাবে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে স্বাধীনতা এনেছিলেন, তেমনি আজ তাঁরই সুযোগ্যা কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জাতীয় ঐক্যমত্য গড়ে তুলতে উদ্যোগী হবেন এবং সবাইকে নিয়ে সবার মতামত ও অংশগ্রহণে বর্তমান সংকট মোকাবেলায় সক্ষম হবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশা করছি।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন তাঁকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে করোনা ভাইরাস রিপোর্ট পজেটিভ আসে। এরপর সেখানে কয়েক দিন তিনি আইসিইউতে ছিলেন। ২১ জুন তাঁর অবস্থার উন্নতি হলে তিনি ঢাকা নেম ভবনের বাসায় ফিরে ১৪ দিনের আইসোলেশনে ছিলেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৯ বার

[hupso]
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com